শুক্রবার ২৩ জুন, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

ট্রাম্পের এক টুইটে মার্কিন সমরাস্ত্র কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধস

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার, ১০:০৪  পিএম

ট্রাম্পের এক টুইটে মার্কিন সমরাস্ত্র কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধস

বন, ডিসেম্বর ১৩ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই)

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে সামরিক খরচ কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর এই এক টুইটে ব্যাপক নড়চড় ঘটেছে একাধিক সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানির শেয়ারে। হুট করেই আকাশ থেকে সোজা মাটির দিকে নেমে গেছে তাদের দরের বিমান। বিশেষ করে এই চোট লেগেছে লকহিড মার্টিন নামের একটি অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানির গায়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনে নতুন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বিমান কিনতে গত সপ্তাহে জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর সঙ্গে চুক্তি করেছিল ওবামা সরকার। সে চুক্তির ব্যাপারে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানান ট্রাম্প। এর রেশ না কাটতেই এবার সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ প্রকল্পের সমালোচনা করে টুইট করেছেন তিনি। ওই টুইটে তার প্রশাসনে সামরিক বাজেট ছোট করে আনার ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। আর এ তথ্য ডালপালা মেলতেই ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবা ক্রেতারা লকহিড মার্টিনসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্র নির্মাতাদের শেয়ার ছাড়তে শুরু করলে ওয়াল স্ট্রিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব শেয়ার মার্কেটে এসবের উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটে।
সোমবার ওই টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘এফ-৩৫ প্রকল্প এবং তার খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আমরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বাঁচাতে পারি আর ২০ জানুয়ারির পর সামরিক (এবং অন্যান্য খাতে) ক্রয়ের ক্ষেত্রে এমনটাই হবে।’
ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইন জানায়, ওই টুইটের পর লকহিড মার্টিনের শেয়ার ৪০০ পয়েন্ট কমে যায়। আর এতে সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিটি একদিনে ৩৫০ কোটি ডলারের বাজার মূল্য হারিয়ে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্য সমরাস্ত্র কোম্পানি নর্থরোপ গ্রুম্যানের শেয়ারও প্রায় ৪০০ পয়েন্টে নিচে নেমে আসে। একই ঘোষণায় ব্রিটিশ সমরাস্ত্র কোম্পানি বিএই সিস্টেমসের শেয়ারও ১৩০ পয়েন্ট কমে যায়।
এদিকে, ট্রাম্পের সমালোচনার পর খরচ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে লকহিড মার্টিন। কোম্পানিটির এফ-৩৫ প্রকল্পের দলনেতা জেফ ব্যাবিওন বলেছেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বিমান ক্রয়মূল্য প্রকৃত নির্মাণ খরচের ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনতে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছি। আর আমরা আশা করছি, ২০১৯ অথবা ২০২০ সালের মধ্যে বিমানের মূল্য সাড়ে ৮ কোটি পাউন্ডে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবো।’

এর আগে ৬ ডিসেম্বর এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লিখেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্য বোয়িং একদম নতুন ৭৪৭ এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান তৈরি করছে। কিন্তু এর খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এর পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি। ওই চুক্তি বাতিল করা হোক।’

ওই টুইট বার্তার পর বোয়িং কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ১৫০ পয়েন্ট পড়ে যায়। তবে দিন শেষে কোম্পানিটি ওই ধাক্কা সামলে উঠতে সক্ষম হয়। বোয়িংয়ের ৪০ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি রয়েছে মার্কিন সরকারের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, আগামী বছর জানুয়ারির ২০ তারিখ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন ট্রাম্প।

সূত্র: দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট, ওয়াইনেটনিউজ

/আইএন/