সোমবার ২১ আগস্ট, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal
ইউরোপ

"সামাজিক উদ্যোগ" ইউরোপে ক্রমশই জনপ্রিয়তা লাভ করছে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৬ রবিবার, ১০:৩২  এএম

"সামাজিক উদ্যোগ" ইউরোপে ক্রমশই জনপ্রিয়তা লাভ করছে

বন, ডিসেম্বর ১০ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই) -- ব্যবসার নতুন কাঠামো বা নমুনা হিসেবে "সামাজিক উদ্যোগ" ইউরোপে ক্রমশই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। যেমনটা মনে করছেন বেলজিয়ামের অক্সিজেন কোম্পানীর সাধারণ ব্যবস্থাপক লোয়িক ফন কুটসেম। এই প্রিতষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনে করেন সমাজের সব থেকে জরুরি ও প্রয়োজনীয় সমস্যাটিকে সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।অবশ্যই এই সামাজিক উদ্যোগ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করবে।

এ নিয়ে লোয়িক বলেন, সামাজিক উদ্যোক্তাদের বিকাশ সারা বিশ্বেই ক্রমশ বাড়ছে। যদিও ইউরোপের মাত্র ৫ শতাংশ কর্মজীবি মানুষ এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এর বাইরেও যে বিষয়টি আকর্ষনীয় তা হচ্ছে প্রচলিত উদ্যোক্তা সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে সামাজিক উদ্যোক্তাপনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে নতুন নতুন ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।

ইউরোপে নতুন চারটি নতুন বানিজ্যিক উদ্যোগের একটি এখন সামাজিক উদ্যোগ। ২০১৫ সালে সামাজিক অর্থনীতির উদ্যোগ যেমন সমবায়ী উদ্যোগ, বহুমুখী কোম্পানী, সমিতি, সংঘ, সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জিডিপির ১০ শতাংশে ভূমিকা রেখেছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৬ শতাংশ এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মূলত মুনাফা অর্জনই এ ধরনের উদ্যোগের আসল লক্ষ্য নয়। মুনাফা সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে সব থেবে বড় বাধা হচ্ছে পুজির বিনিয়োগ। প্রচলিত বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করতে খুব একটা আগ্রহী না। সাধারণ "ক্রাউডফান্ডিং" অনেক সময় এসব উদ্যোগের বিনিয়োগ সংগ্রহের একটা উপায় হিসেবে কাজ করে।

যেমন বেলজিয়য়ামের পারমাফুঙ্গি। এ প্রতিষ্ঠানটি "ক্রাউডফান্ডিং" পদ্ধতি ব্যবহার করে পু্জি সংগ্রহ করেছিল। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করেছিল "ক্রাউডফান্ডিং" প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন ক্রাউড।

ব্রাসেলস ভিত্তিক এই সামাজিক প্রতিষ্ঠান ফেলে দেওয়া কফির গুড়ো থেকে তিনশ থেকে চারশ কিলোগ্রাম মাশরুম উতপাদন করছে প্রতিমাসে। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বেশ মুনাফাও করছে এই সামাজিক উদ্যোগ। একবার উতপাদন শেষে কফির গুড়োগুলো আবার কৃষকরা মাঠে ব্যবহার করেন জৈব সার হিসেবে অন্য ফসল ফলাতে।

পরিবেশবান্ধব উতপাদনের পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে এই সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে। যাদের অধিকাংশই অদক্ষ, যাদের অন্য কোনও ধরনের চাকুরি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। যেমন একদল সাইকেল চালক কর্মী প্রতিমাসে ব্রাসেলসের বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট থেকে দেড়টন ব্যবহৃত কফি সংগ্রহ করে থাকেন।

এরকমই একজন পেরমাফুঙ্গির কর্মী ভিলিয়াম বের্গার বলেন, এই প্রকল্প আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বসচেতন করেছে। এখন আমি অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পারি।

১৮ মাস আগে প্রতিষ্ঠিত পেরমাফুঙ্গি এ পর্যন্ত ৬ স্থায়ী কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। মাশরুম উতপাদন ছাড়াও নতুন নতুন পন্য উতপাদনের পরিকল্পনা করছে এর কর্মকর্তারা।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন গেরমুএউ বলেন, ছত্রাকের মুল ভিত্তি মাইসিলিয়াম থেকে নিরোধক তৈরি করা যেতে পারে। আর কফি গুড়ো থেকে অন্যান্য পন্য যেমন সাবান তৈরি করার চিন্তা ভাবনা আমাদের রয়েছে। কার্যত অনেক সম্ভাবনাই রয়েছে। তবে আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি নতুন মাত্রার উদ্যোক্তা নমুনা তৈরি করা।

"আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বড় আকারের মাশরুম উতপাদক এ পরিনত হওয়া। আমরা অন্যদেরও সহায়তা করতে চাই। যাতে করে তারা নিজেদের এলাকায় আমাদের মতো করে মাশরুম উতপাদন করতে পারে।

ব্রাসেলসে প্রতিবছর ৫০০০ টন কফির গুড়ো বের হয় রেস্টুগুলো থেকে। এটি আমাদের হাজার হাজার টন মাশরুম উতপাদনের সুযোগ করে দিয়েছে- তিনি যুক্ত করেন।

ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/এমআরএফ