মঙ্গলবার ২৪ এপ্রিল, ২০১৮
deutschenews24.de
Ajker Deal

জার্মানিতে কট্টর ডানের উত্থানেও টিকে গেলেন মেরকেল

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সোমবার, ০৮:২৩  পিএম

জার্মানিতে কট্টর ডানের উত্থানেও টিকে গেলেন মেরকেল

বন, ২৬ সেপ্টেম্বর (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/ডিপিএ)- টানা চতুর্থবার চ্যান্সেলর পদে অ্যাঙ্গেলা মেরকেল টিকে গেলেন বটে, তবে এবারের সাধারণ নির্বাচনে চরম ডানপন্থিদের উত্থান জার্মানির রাজনীতির গতিধারা বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

রোববার ভোটের ফল দেখে ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল বলছেন, “এই নির্বাচন এক স্পষ্ট বার্তা বহন করছে৷ সবকিছু আর আগের মতো চলবে না।”

 

ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ও ক্রিশ্চিয়ান সোশাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) ৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করলেও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

 

বর্তমান সরকারের জোটে থাকা এসপিডি বিপর্যয়কর ফলাফলের পরও দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থেকে এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এবার বিরোধী দলের আসনে বসবে।

 

বাম ও গ্রিন পার্টিকে হটিয়ে তৃতীয় ‍বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি); মাত্র চার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত নব্য নাৎসি সমর্থকদের এই দলটি মুসলিম ও শরণার্থীদের চরম বিরোধী।

 

 

জার্মানির ৫৯৮ আসনের পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো নাৎসি সমর্থক দল আসন নিতে চলল।

 

ভোটে এএফডির এই বিজয়ের পর বিক্ষোভ হয়েছে জার্মানিতে । বার্লিনে দলটির সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষুব্ধদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘শরণার্থীদের স্বাগতম’। ডানবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলনেও।

 

ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সিডিইউ-সিএসইউ জোট ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে, এসপিডি পেয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। জরিপের ফলকে পেছনে ফেলে এএফডি পেয়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। বামরা পেয়েছে ৯ শতাংশ ভোট এবং গ্রিন পার্টি পেয়েছে ৮ শতাংশ।

 

২০০৫ সাল থেকে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করে আসা মেরকেলের দল সিডিইউর ভোট কমেছে ৮ শতাংশ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাদের সবচেয়ে খারাপ ফল।

 

ভোটের ফল দেখে হতাশ মেরকেল বলেছেন, তারা ভালো ফল আশা করছিলেন, কিন্তু তা হয়নি।

 

ডানদের পুনরায় পেছনে ঠেলে দিতে নতুন সরকার ভোটারদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেবে বলে সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন তিনি।

 

শরণার্থীদের বিরোধিতাকে পুঁজি করে এএফডির ভালো ফলের দিকে ইঙ্গিত করে মেরকেল বলেছেন, “জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে , আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব অবিচল থেকে, আমাদের অন্য সঙ্গীদের নিয়ে।”

 

জার্মানদের কাছে মা হিসেবে পরিচিত মেরকেল। তবে এবারের নির্বাচনে ফল বিশ্লেষণ করে বিবিসির বার্লিন প্রতিনিধি জেনি হিল বলেন, একে ৯ লাখ শরণার্থীর জন্য জার্মানির দ্বার খুলে যাওয়ার ‘শাস্তি’ বলা যায়।

 

এবারের ভোটে বিপর্যয়কর ফলের পর এসপিডি নেতা মার্টিন শুলজ বলেছেন, মেরকেলের মহাজোটের ইতি ঘটল।

 

তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “এটা জার্মানির সোশাল ডেমক্রেটদের জন্য বিষাদময় ও কঠিন একটি দিন। আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি।”

 

লাল রঙের এসপিডির প্রত্যাখ্যানের ফলে ‘জামাইকা’ কোয়ালিশনের সরকার গঠন স্পষ্ট হচ্ছে।  অর্থাৎ ক্যারিবীয় দেশ জ্যামাইকার পতাকার তিনটি রঙের দলগুলোর সরকার হবে। এখানে কালো রঙের সিডিইউ ও সিএসইউ, হলুদ রঙের এফডিপি এবং সবুজ রঙের গ্রিন পার্টি সেই সরকার গড়বে।

 

তবে এই দলগুলোকে সামাল দেওয়াও কঠিন হবে মেরকেলের জন্য। কেননা গ্রিন পার্টি যেখানে ২০টি কয়লা বিদ্যুৎ চিরতরে বন্ধ করতে চায়, সেখানে তাতে আপত্তি রয়েছে এফডিপির।

 

তবে অন্য সব দল জানিয়ে দিয়েছে, এএফডির সঙ্গে কোনো জোটে তারা যাচ্ছে না। তাতে কী, যে ফল হয়েছে তাতেই খুশি কট্টর জাতীয়তাবাদী এই দলটি।

 

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ডানপন্থিদের উত্থানের যে ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছিল, জার্মানিতে তা ছাপিয়ে  গেছে  ২০১৩ সালে যত্রা শুরু করা এএফডি।

 

ভোটের ফলকে ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ বলে মন্তব্য করেছেন এএফডির নেতা ফ্রাউকে পেট্রি।

 

এই দলটি শরণার্থী নেওয়ার চরম বিরোধী; মুসলিমরা জার্মান সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নয় বলেও মনে করে দলটি। দলটির নেতাদের নানা কথা নাৎসিদেরই স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

পেট্রি বলেন, “এখন আমরা শরণার্থীদের নিয়ে বিতর্ক তুলব, আমরা বিতর্ক তুলব ইসলাম নিয়ে।”

 

এখানেই সমস্যা দেখছেন রাজনৈতিক অনেক বিশ্লেষক।

 

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল বলেন, “একে সাক্ষাৎ বিপর্যয় বলা চলে৷ এটা একটা চ্যালেঞ্জ। শরণার্থীরা এসে তাদের দেশ বদলে দিতে পারে বলে অসংখ্য মানুষের মনে আজ যে ভয় জন্মেছে, সেই আবেগকে গুরুত্ব দিতে হবে৷” 

 

ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/এমএম