সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

অস্থিরতার সুযোগে আরাকানে সস্ত্রাসী অনুপ্রবেশের শঙ্কা ইআরসি´র

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার, ০১:৫১  পিএম

অস্থিরতার সুযোগে আরাকানে সস্ত্রাসী অনুপ্রবেশের শঙ্কা ইআরসি´র

বন, আগস্ট ২৯ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই) - অস্থিরতার সুযোগে আরাকানে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের শঙ্কা করে ইউরোপ প্রবাসী রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সমস্যা সমাধানের দাবী করেছেন।

ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের (ই্আরসি) বোর্ড অব ট্রাস্ট্রি মো. ইব্রাহিম মঙ্গলবার ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিইকে বলেন, স্বশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব না। জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে শান্তিপূর্ণভাবে এর সমাধান করতে হবে।

বর্তমানে ইআরসিসহ প্রাবাসী রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠন আরাকানে নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনের কাজ করছে বলে তিনি জানান।

বর্তমানে জার্মান এ নাগরিক বলেন, ক্যারেন বিদ্রোহীরা অস্ত্রধারণ করে সফল হতে পারেনি। ওরা ১০০-১৫০ বছর ধরে লড়াই করছে। আমাদের পক্ষেও সম্ভব না। আমাদের সেই অর্থ ও জনবল নেই।

তিনি আশঙ্কা করেন, স্বশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হলে এর মধ্য দিয়ে জঙ্গী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আরাকানে ঢুকে যেতে পারে। এতে করে ওই এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হবে যা মিয়ানমার সরকার, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবেশী হিসাবে বাংলাদেশ- কারও জন্যই ভালো হবে নয়। বরং অজস্র নিরীহ মানুষ মারা যাবে।

তিনি আশঙ্কা করছেন গত কয়েকদিনে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মারা গিয়ে থাকতে পারে।

"আমরা এখনও সঠিক সংখা জানি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।"

সম্প্রতি আরাকানে স্বশস্ত্র হামলা পরিচালনা করা আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) সম্পর্কে তিনি বলেন, ওদের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি এরা কারা এটাও আমরা জানি না। এরা কোত্থেকে অস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহ করছে সেটাও প্রশ্নে মুখে আছে।

ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে কমিশন গঠন ও কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের দিন আরসা হামলা পরিচালনা করেছে। এতে করে অনেকেই মনে করছেন, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সঙ্গে আরসাও চায় না যে আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন হোক।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, "অনেকেই মনে করছেন মিয়ানমার সরকারই আরসাকে সহায়তা করছে রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য। রোহিঙ্গা সমস্যাকে সন্ত্রাসী একটা রূপ দেওয়ার জন্য। আরসা স্থানীয় রোহিঙ্গাদের উপরও হামলা করেছে। সরকার কিন্তু তখন তাদের বাধা দেয়নি।"

ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সরকার চায় সব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসুক। এজন্যই তারা অত্যাচার নির্যাতন করে থাকে। আগুন দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেই থাকতে চাই।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু শহরের জন্ম নেওয়া মো. ইব্রাহিম আরও এক ভাইসহ ১৯৯১ সালের বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন।২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে থাকার পর বাংলাদেশি পার্সপোর্ট সংগ্রহ করে জার্মানিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

ইব্রাহিমের আরও দুই ভাই ও এক বোন মংডু শহরের থাকেন। বাংলাদেশে অবস্থান করা অপর এক ভাইয়ের সঙ্গে মিয়ানমারে অবস্থান করা দুই ভাই ও বোনের পাঁচদিন আগে কথা হয়েছে। এরপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নেই বলে ইব্রাহিম ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিইকে জানান।

এদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছ ইআরসি। এছাড়াও শুক্রবার যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভ করবে সেখানে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে ইআরসি জানিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, অষ্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছেন।


ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/এমআরএফ

সংবাদ - এর আরও খবর

সংবাদ বিভাগের সব খবর