শুক্রবার ২৩ জুন, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার অবহেলাতেই রিজার্ভ চুরি

ঢাকা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০৩:৪৪  এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার অবহেলাতেই রিজার্ভ চুরি

বন, ডিসেম্বর ০৯ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই) -- বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ খোয়া যাওয়ার পেছনে ব্যাংকটির ৫ কর্মকর্তার অবহেলাকেই দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি। সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে কমিটি গঠনের পর গত মে মাসে তদন্ত প্রতিবেদনটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাতে তুলে দেন তারা। এরপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে অনেকবার ঘোষণা দিলেও এখনও তা প্রকাশ করেননি অর্থমন্ত্রী।এমনকি অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে এতদিন এর সব তথ্য তিনি গোপন রাখতে সমর্থ হন।তবে বৃহস্পতিবার রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা।

প্রসঙ্গত ওই প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এটাই তার প্রথম বিশদ মন্তব্য। রয়টার্সকে তিনি পাঁচ কর্মকর্তার কথা বললেও তাদের কারও নাম প্রকাশ করেননি।

নিজ কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, এই ব্যক্তিরা নিম্ন থেকে মধ্যম সারির কর্মকর্তা। এই অপরাধের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনও সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তারা অমনোযোগী, অসতর্ক ও ঘটনার পরোক্ষ সহযোগী ছিলেন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, আলোচিত এ রিজার্ভ চুরি ঘটনায় এখনও ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা রয়টার্সের কাছে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। এরপর ওই অর্থ পাঠানো হয় ফিলিপাইনের কয়েকটি ক্যাসিনোতে। তবে সে অর্থ আজও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। তবে বানান ভুলের কারণে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তোলা যায়নি। আর এর ফলে এই রিজার্ভ চুরি বা সাইবার ডাকাতির বিষয়টি সামনে আসে।

এ ঘটনা প্রথম জানাজানি হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে। ফিলিপাইনের দৈনিক ইনকোয়ারারে এ নিয়ে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে মার্চের শুরুতে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ঘটনার দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।

 

ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/টিএন/এমআরএফ