মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
deutschenews24.de
Ajker Deal

চলুক এই রাজনৈতিক-সামাজিক সার্কাস

তুষার আহমেদ
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার, ০১:১৯  এএম

চলুক এই রাজনৈতিক-সামাজিক সার্কাস

আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি, যেখানে ভালো মানুষ আর ভালো স্বপ্ন দেখে না, কিন্তু খারাপ লোকেরা আরও লুটপাটের জন্য বেপরোয়া। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাম্ভিকতা দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা দেয়ার মতো কোনো নজরদারি বা তদারককারী প্রতিষ্ঠান নেই।..`প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

সবাই আজ প্রধানবিচারপতির গুনকীর্তনে ব্যস্ত একমাত্র কিছু অতি-আওয়ামী লীগার ছাড়া। গতকাল যারাই বলছিলেন,একটা মুসলিম প্রধান দেশে মালাউন প্রধানবিচারপতি!? ছি ছি,ইসলাম বলতে কিছু আর রইলো না দেশে। যিনি গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে অশ্লীল মূর্তি স্থাপনের জন্য ঘৃণীত ছিলেন যাদের কাছে,তিনিই আজ অবতার হয়ে গেছেন তাদের কাছে। রাজনীতি বড়ই বিচিত্র আমাদের দেশে। সরকারী দল বিপদে পড়লে বিরোধী দল খুশি হবে এটাই স্বাভাবিক। রাস্ট্র পরিচালনার প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের জন্য প্রধানত সরকারী দল, বিরোধী দল এবং সবসময়ে সরকারী দলের পা-চাটা কুত্তার দল, কেউই তাদের দ্বায় এড়াতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষনের সাথে ১০০% একমত হয়েই বলছি, আমাদের মত সাধারন জনগনের এই দ্বিমূখী আচরন কবে বন্ধ হবে? আমরা রাজনীতিকে আজ প্রতিপক্ষ দমনের জন্য ব্যবহার করছি,সেটা যেমন সব আমলেই ছিল আর সামনেও তা বন্ধ হবার নয় কেননা আমরা জনগনই আসলে খারাপ। সমাজে এখন সত্যি ভাল মানুষের বড়ই অভাব। অন্যের বিপদে আমরা আনন্দিত হই, কেক কাটি, পার্টি দেই। রাজনীতি যেমন নষ্টদের দখলে তেমনি রাজনীতি করাই হয় নিজের আখের গোছানর জন্য। কেননা যারা আজ রাজনীতি করছেন তারাও এই নষ্ট সমাজেরই একজন সেবক ও রিপ্রেজ্নটেটিভ। এদের কাছে জনসেবা সেটা ফালতু একটা ধারনা মাত্র।

যারা আজ সুরেন্দ্র কুমার সিনহার গুণকীর্তন করছেন তাদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন, তার অনেক পর্যবেক্ষন প্রকাশিত হয়েছে। যেমন:৭২ সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিষয় সহ রাস্ট্রের চার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো যা পরবর্তিতে সংবিধানে সংযোজন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ইসলামকে। এরসাথে "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম" যোগ করাটাও ৭২ এর মূল সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক যেহেতু রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা প্রাপ্ত সংবিধানের মূল চার স্তম্ভ ছিল। ধর্ম নিরপেক্ষতার সাথে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম যায় না কোনভাবেই। হয় রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাদ যাবে না হলে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে কে বাদ দিতে হবে।এটাও তার আর একটা জনগুরুত্বপূর্ণ অবজারভেশন। এখন আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যদি ৭২ এর মূল সংবিধানে ফিরে যায় তাহলে মানবেন? সংবিধান থেকে "রাস্ট্রধর্ম ইসলাম"বা "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম" যদি বাদ দেয় কোন সরকার তাহলে এরাই যারা আজ প্রধান বিচারপতির গুন গাইছেন তারা ইসলাম রক্ষার নামে যে আর একটা ৫ই মে তৈরী করবেন না তার নিশ্চয়তা কি? দ্বীচারিতা বাদ দিয়ে আসুন আমরা মানুষ হই আগে।

সবার আগে একটা সুস্থ্য সামাজিক ব্যবস্থা তৈরী করুন,সুস্থ্য রাজনীতির চর্চা করুন, সুস্থ্য জাতিগঠনে ভূমিকা রাখুন। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে শিখুন, দেখবেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহাদের আর কোন পর্যবেক্ষণের দরকার হবে না সমাজ বিণির্মানে। আমরা জাতি হিসেবে এক নপুংসকের দল যারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে গলাবাজি,দলবাজি আর চামচামী তে ওস্তাদ কিন্তু যখন দরকার হবে প্রতিবাদ করার কোন অন্যায়ের তখন মাথা গুঁজে থাকবো উটপাখির মতো। আমার গায়ের উপরে না পড়া পর্যন্ত আমরা সহ্য করবো অন্যের ক্ষতি করে হলেও, তাই না? কিন্তু আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই সব গেল গেল রব?

ভালই তো, চলছে চলুক এই রাজনৈতিক-সামাজিক সার্কাস। মাঝে মাঝে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার মতো বোকারা এসে আমাদের মতো নপুসংক জাতি, সমাজের গালে চপেটাঘাত করে ঘুম ভাঙ্গানোর চেষ্টা করবে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে আর আমরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে একদল তাকে গালাগাল করবো আর একদল তালিয়া বাজাবো কিন্তু নিজের জন্য মোটা তালগাছ যার ভাগে পড়বে না এইসব সুরেন্দ্র কুমার সিনহাদের মতো বোকা মানুষদের জন্য,তাঁরাই গালাগাল করবো আর বিরোধীদল সুযোগ বুঝে তালিয়া বাজাবো। চলিতেছে সার্কাস আর সেই সার্কাসে আমরা জনগন দুই দল জোকার,দুই দলে বিভক্ত হয়ে রাস্ট্র ব্যবস্থার পিন্ডি চটকাবো।

বাচ্চারা তালিয়া বাজাও।

তুষার আহমেদ: বৃটেন প্রবাসী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকত্তোর।