রবিবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
deutschenews24.de
Ajker Deal

ক্ষুদ্রঋণঃ দারিদ্র দূরীকরণে প্রতিকার নাকি সমস্যা?

ফাহাদ গালিব অনি
প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০১৭ রবিবার, ০৩:২৭  এএম

ক্ষুদ্রঋণঃ দারিদ্র দূরীকরণে প্রতিকার নাকি সমস্যা?

বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপযোগী। ১৯৭০ সালে ক্ষুদ্রঋণের পরিকল্পনা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশি হিসেবে তিনিই প্রথম যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের ১৩ মিলিয়ন গ্রাহক ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের সাথে জড়িত। বিভিন্ন সংগঠন এবং অন্যান্য সংস্থা গ্রাহকদের সাহায্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণের মূল ধারণা, যারা আর্থিক দিক দিয়ে অসচ্ছল তাদেরকে স্বল্পমেয়াদি ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া যাতে করে তারা তাদের আর্থিক -সামাজিক দিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়।

ক্ষুদ্রঋণের অধিকাংশ গ্রাহক নারী, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের নারীদের ভূমিকা অনেকাংশেই অসচ্ছল। মেয়েরা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা শেষ করার পূর্বেই ঝরে পরে বাল্য বিবাহের দরুন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থা হওয়াতে নারী ক্ষমতায়নের ধারা বজায় থাকছে না। তবে বর্তমানে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীই উপলব্ধি করছেন তাদের আর্থিক-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। ক্ষুদ্রঋণ নারীর ক্ষমতায়ানে একটি সুবিশাল প্রভাব ফেলেছে।


ক্ষুদ্রঋণের বিভিন্ন গবেষণা মতে, নারীরা শুধু অর্থই উপার্জন করছে না বরং পাশাপাশি তারা সীন্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতাও অর্জন করছে. পুরুষেরা সাধারণত স্ত্রীর আয় আর হুমকি হিসেবে দেখছে না। ক্ষুদ্রঋণের প্রধান ইতিবাচক দিক হচ্ছে পুরুষেরা উপলব্ধি করতে পেরেছে নারীর উন্নয়ন মানে পরিবারের উন্নয়ন এবং তারা নারীদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে।


বিভিন্ন সময়ে অনেক গবেষণা হয়েছে ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে এবং ফলাফল অনেক সময় পরস্পরবিরোধী। কিছু গবেষণা অনুযায়ী, দারিদ্র্যতা হ্রাসে মাইক্রো ক্রেডিট এর গুরুত্ব অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এবং উচ্চ সুদের ঋণ আরও দারিদ্রতা সৃষ্টি করছে। ক্ষুদ্রঋণ একমাত্র প্রতিকার হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়, নারীর আর্থিক -সামাজিক অবস্থা অন্য অনেক কারণের দ্বারা প্রভাবিত হয়, এবং এর পরিবর্তন ধীরগতি সম্পন্ন। উপরন্তু, ক্ষুদ্রঋণের কিছু নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে. এমনকি তারা পরোক্ষভাবে পারিবারিক সহিংসতাও সৃষ্টি করতে পারে। অনেকের মতে, ক্ষুদ্রঋণ সত্যিকারভাবে দারিদ্রতা দূর করতে সক্ষম নয়।


তবে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা উচিত, সামাজিক নিয়ম ও নারীর মান বিকাশে আরো অধিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন. দারিদ্র্য দূরীকরণ ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা অন্যতম।

 

ফাহাদ গালিব অনি
বার্লিন, জার্মানি