বুধবার ২২ নভেম্বর, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

চীন-মার্কিন যৌথ বাণিজ্য কমিশনের ২৭তম বৈঠক


প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার, ১১:৫৯  পিএম

চীন-মার্কিন যৌথ বাণিজ্য কমিশনের ২৭তম বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় গত ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় চীন-মার্কিন বাণিজ্য কমিশন (জিসিসিটি)-র ২৭তম বৈঠক। চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়াং ইয়াং, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি প্রিত্‌জকার, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ফ্রোমান যৌথভাবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে দু`দেশের ৮০ জনের বেশি প্রতিনিধি দ্বিপক্ষীয় আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্কের ১২টি আলোচ্য বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বৈঠকশেষে দুটি সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

চীন-মার্কিন যৌথ বাণিজ্য কমিশন দু`দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সবচে` পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থ-বাণিজ্যিক প্লাটফর্ম। বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়াং ইয়াং বলেন, এ কমিশনের মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্য অর্জন করতে চায় তার দেশ। তিনি বলেন,

"সর্বপ্রথমে মতভেদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তিযুক্ত অনুরোধ বিবেচনা করবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে সরকার পরিবর্তের পরও দু`দেশের আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তির ১৫ নম্বর বিধিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রও সম্মান করবে বলে আশা করে বেইজিং। দু`দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোও একটি লক্ষ্য। আগামী বছর বা অদূর ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের সুষ্ঠু ভিত্তি স্থাপিত হয়ে যাবে বলেও আমরা আশা করছি।"

এবার জিসিসিটি`র বৈঠকে রফতানি নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক প্রতিকার, কৃষিজাত পণ্যের মান পরীক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল সেবা, যুক্তরাষ্ট্রে পুঁজি বিনিয়োগ, কৃষি ও জৈবপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দু`দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়। তারা বিভিন্ন খাতে সমঝোতা জোরদার ও আদান-প্রদান বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হন। বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী ম্যাডাম পেনি প্রিত্‌জকার বলেন,

"মার্কিন-চীন সম্পর্ক বিশ্বের সবচে` গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলোর অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তন হলেও, দু`দেশের উন্নয়ন তথা বৈশ্বিক অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন দু`পক্ষের সহযোগিতার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে। জিসিসিটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান মতভেদ দূর করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সহযোগিতায় সাফল্য অর্জিত হওয়ার গুরুত্বও অনেক।"

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিসিসিটি ব্যবস্থা সংস্কার করা হয়েছে এবং এতে সহযোগিতামূলক ও কৌশলগত আলোচ্য বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা জানান, বারাক ওবামার কার্যমেয়াদেই দ্বিপক্ষীয় আর্থ-বাণিজ্যিক সহযোগিতায় আরো বস্তুগত সাফল্য অর্জিত হবে বলে তারা আশা করেন। নতুন সরকার শপথগ্রহণের পরও দু`দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ফ্রোম্যান বলেন,

"জিসিসিটি দু`দেশের মধ্যে সবচে` পুরনো অর্থনৈতিক ফোরাম এবং চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিনিময়ের স্তম্ভস্বরূপ। এবারের বৈঠকে অর্জিত সাফল্যকে আমি ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখি।"

বিশ্বের সবচে` বড় দুটি অর্থনৈতিক সত্তা হিসেবে চীন-মার্কিন আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দু`দেশের অর্থনীতি পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। চীন সরকারের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গেল বছর দু`দেশের মধ্যে পণ্য-বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৮৪০ কোটি মার্কিন ডলার। এ সম্পর্কে চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়াং ইয়াং বলেন, দ্বিপক্ষীয় আর্থ-বাণিজ্যিক সহযোগিতার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি শিল্পমহল। দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে সহযোগিতাই হচ্ছে দু`দেশের সামনে একমাত্র অভিন্ন উন্নয়নপথ। (সূত্র: চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল)