বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

সংবাদ বিশ্লেষণ: টিপিপি চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চিত


প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার, ১১:৪৬  পিএম

সংবাদ বিশ্লেষণ: টিপিপি চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চিত

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যেদিন তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন সেদিনই তিনি আন্ত:প্রশান্ত অংশীদারিত্ব মুক্ত-বাণিজ্য বা টিপিপি চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন। টিপিপি হচ্ছে বিশাল এক আঞ্চলিক মুক্ত-বানিজ্য চুক্তি যেখানে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মত ১২টি দেশ সংশ্লিষ্ট রয়েছে। এই জোটের সমন্বিত জিডিপি`র প্রায় ৬০% জুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার এর কার্যকর হওয়াকে অসম্ভব করে তুলবে। এটি কার্যকর হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৬টি অনুস্বাক্ষর করা দেশের প্রয়োজন যেগুলোকে সমন্বিত জিডিপি`র ৮৫% জুড়ে থাকতে হবে।
আজকের সংবাদ বিশ্লেষণে, আমরা কথা বলব মিযুহো গবেষণা ইন্সটিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা, জুনইচিরো সুগাওয়ারার সাথে। তিনি টিপিপি চুক্তির ভাগ্যে এরপর কী রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এই বার্তা টিপিপি চুক্তি যে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই সেকথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। কিন্তু মি: ট্রাম্প উত্তর আমেরিকার মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আবার আলোচনা করা এবং চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৪৫% শুল্ক আরোপসহ কঠোর সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতির বিষয়ে কিছুই বলেননি। এটা অবশ্যম্ভাবী যে, তিনি যদি তার প্রস্তাবসমূহ নিয়ে এগিয়ে যান, তাহলে তা মার্কিন অর্থনীতির উপরে বেশ বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। টিপিপি এখনও কার্যকর হয়নি। তাই, যদি যুক্তরাষ্ট্র এর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেদেশের জন্য কেবল এই চুক্তি থেকে যেসব সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছিল সেগুলো পাওয়ার সুযোগ হারাবে। মি: ট্রাম্পের জন্য টিপিপি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়াটা হচ্ছে অন্যতম একটি সহজে পূরণ করতে পারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আর একারণেই তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, জাপানে কেউ কেউ বলছেন, মি: ট্রাম্পের সর্বসাম্প্রতিক মন্তব্যের পরে টিপিপি মুখ থুবড়ে পড়বে, টিপিপি চুক্তি হয়তো এভাবেই শেষ হয়ে যাবে। এই সর্বসাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা ভেবে নেয়া প্রয়োজনীয় নয় যে, এই চুক্তি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বা ভেঙ্গে পড়তে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবেই বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে। এখানে এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই সময়ে, সংসদে টিপিপি নিয়ে অনুমোদন পাওয়ার জন্য জাপান প্রয়োজনীয় বিতর্ক নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাপান-ইইউ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং পূর্ব এশীয় দেশসমূহের মধ্যকার আঞ্চলিক ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মত তথাকথিত মেগা-এফটিএ সংক্রান্ত আলচনাও এগিয়ে রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের মেগা-এফটিএ`র অংশ নয়। যদি জাপান, এশীয় দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ ইতিবাচকভাবে কাজ করে এবং এ ধরনের চুক্তিগুলো সমাপ্ত করে ফেলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি এবং অন্যান্য এশীয় বাজারেও আরো বেশি করে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। আর এই বিষয়টি হয়তো ট্রাম্প প্রশাসনে এই দৃঢ় প্রত্যয় উৎপাদন করতে পারবে যে, এইসব অসুবিধাগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য টিপিপি চুক্তি অপরিহার্য।

জাপানের জন্য মি: ট্রাম্পের মন্তব্যে প্রভাবিত না হয়ে, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া চালু রাখার মাধ্যমে এ বার্তা প্রেরণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, টিপিপি শেষ হয়ে যায়নি।(সূত্র: এনএইচকে ওয়ার্ল্ড)

সংবাদ - এর আরও খবর

সংবাদ বিভাগের সব খবর