বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

থ্যাংকসগিভিং দিবস: নানা খাবারের আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে ঘরে


প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার, ১১:২৪  পিএম

থ্যাংকসগিভিং দিবস: নানা খাবারের আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে ঘরে

থ্যাংকসগিভিং এর দিনে আমেরিকানরা পরিবারের সকলে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একত্রিত হন। তাদের সুস্থ্য সুন্দর জীবনের জন্য ঘটা করেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সৃষ্টিকর্তাকে।

এই দিনে যেসব খাবারের আয়োজন হয় তার বেশিরভাগই ঐতিহ্য অনুসরন করেই করা হয়। গ্রীন বিন, মিষ্টি আলু, ভুট্টা কাংবা টার্কি; সবই। রান্নার পর পরিবেশন করা হয় শুস্বাদু সস সালাদ ও ঝোল দিয়ে। এদিনে থাকে পরিবরের সঙ্গে ফুটবল খেলা উপভোগসহ বিভিন্ন কিছু।

এবার থ্যাংকসগিভিং এর লম্বা ছুটি কাটাতে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান বেরিয়ে পড়েছেন বাইরে। ধারনা করা হচ্ছে বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই লম্বা ছুটি কাটাতে অন্তত ৪ কোটি ৯০ লক্ষ আমেরিকান গাড়ী চালিয়ে বাসে বা ট্রেনে অথবা বিমানে বিভিন্ন স্থান সফর করবেন। ২০০৭ সালের পর এটিই সবচেয়ে লম্বা থ্যাংকসগিভিং এ ছুটি যুক্তরাষ্ট্রে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে দুটি টার্কি ছেড়ে দিয়ে থ্যাংকসগিভিং এর ঐতিহ্য অনুসরণ করছেন বুধবার।

থ্যাংকগিভিং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্য হলেও এখানে বসবাসরত অন্যান্য অভিবাসি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও এদিন নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করেন। যেমনটি বলছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশী।

জার্মানী থেকে আসা কবি নাজমুন নেসা পিয়ারী নিউইয়র্কে বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে থ্যাংকসগিভিং অণুষ্ঠানে থাকতে পেরে ভীষণ আনন্দিত; যেমনটি বলছিলেন তিনি।

ব্যাচেলর যুবক অসীম ঘোষ থ্যাংকসগিভিং দিনটি কাটান সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে। জানালেন তার আজকের পরিকল্পনার কথা।

সাংবাদিক মনিজা রহমান যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ বছর। এবারের থ্যাংকসগিভিং এর দিনে তিনি বেশ কয়েকটি দাওয়াতে ব্যাস্ত বলে জানালেন।

ম্যারিল্যান্ডের পপুলার স্প্রিং এনিম্যাল স্যাংচুয়ারিতে, টার্কি রান্না না করে তাদের যত্ন নেয়া হয়। গত ১৮ বছর ধরে এখানে এই নিয়ম চলে আসছে। থ্যাংকসগিভিং এর দিন পর্যটকরা এখানে এসে ঐসব টার্কির সঙ্গে সময় কাটান; তাদেরকে খাওয়ান।

এটি একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কেনো? তা বললেন এই পশু আশ্রয়স্থলটির যৌথ প্রতিষ্ঠাতা টেরি কামিংস; “আামরা এই অনুষ্ঠানটি করি কারন এতে করে মানুষ এখানে এসে একটি নৃশংসতাহীন থ্যাংকসগিভিং উদযাপনের সুযোগ পান; যা বহু মানুষ ঘরে বসে করার সুযোগ পান না”।

টেরি বললেন, এতে করে মানুষদেরকে টার্কি সম্পর্কে জানারও সুযোগ দেয়, “আমরা মানুষজনকে বোঝাতে চাই যে টার্কিরও কুকুর বা বিড়ালের মতো সুন্দর জীবন রয়েছে। তারাও অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মতো সঙ্গী হতে পারে। আরো যা বোঝাতে চাই তা হচ্ছে পশু ছাড়াও ভালো খানার আয়োজন হতে পারে”।

মাংস ও ডেইরীজাত খাবার ছাড়া পিকনিক পছন্দ করা মানুষজন সেখানে যান। তাদের একজন লরা ফক্স বললেন কেনো তিনি যান সেখানে?

“আমরা এখানে এসেছি এই পশু আশ্রয়কেন্দ্রকে সহায়তা করতে যে মাংস ছাড়াও ভালো ফিষ্ট হতে পারে”।

এরিন নামের এই দর্শনার্থী বললেন, “এটি চমৎকার একটি বিষয় যা আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় কোত্থেকে আমরা খাবার পাচ্ছি এবং এটা বোঝা যে কি খাই আমরা”।

কারেন নামের এই দর্শননার্থী বললেন, “এটা মানুষকে ভেগান হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেবে। টার্কিগুলো কতো সুন্দর তা বোঝারও একটা সুযোগ এটি”।

৪৩০ একর এই আশ্রয়কেন্দ্রে টার্কি ছাড়াও রয়েছে ছাগল, ভেড়া, শুকরসহ প্রায় ২০০ অন্যান্য পশু। যেভাবেই হোক দিনটি সকলের জন্য শুভ হোক।( সূত্র: ভয়েস অফ আমেরিকা)