সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯
deutschenews24.de
Ajker Deal

বেনজিরকে কে মেরেছিল?

আলতাফ পারভেজ
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ বুধবার, ১১:১৫  এএম

বেনজিরকে কে মেরেছিল?

ডিসেম্বর এলেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কটি খানিকটা নড়বড়ে হয়ে ওঠে। সংগত কারণেই পাকিস্তানের জন্য ডিসেম্বর বিব্রতকর।
কিন্তু এ মাসটি কেবল একাত্তরের যুদ্ধের কারণেই নয়, আরো বহু কারণে পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তি বয়ে আনে। তার মধ্যে একটি হলো বেনজির ভূট্ট্রোর মৃত্যুর ঘটনা। এ মাসেরই ২৭ ডিসেম্বর মারা গিয়েছিলেন বেনজির।
নয় বছর হলো।

পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশেও ব্যাপক পরিচিত ছিলেন বেনজির। কিছুটা তাঁর পিতার কারণে, কিন্তু অনেকখানি তাঁর গ্লামারাস ঝাঁঝালো ব্যক্তিত্বের কারণে। শিক্ষা ও সৌন্দর্য্যরে জন্য বিশেষভাবে নন্দিত বেনজিরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও ছিল উত্তাল ও বর্ণিল। দু’বার (১৯৮৮ ও ১৯৯৩) প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন—দু বারই বরখাস্ত হন দেশটির ‘এস্টাবলিশমেন্ট’-এর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে।

বাংলাদেশে এ বিষয়ে যে খুব বেশি আলোচনা হবে না সেটা ধরেই নেয়া যায়। পাকিস্তানেও তাঁর মৃত্যু অধ্যায়কে এড়িয়ে যাওয়া হয় এখন--যদিও নিকটজন যাদের কাছে তিনি ‘বিবি নামে পরিচিত তারা সেদিন প্রিয়জনকে স্মরণ করতে যেয়ে এই ভেবে নিশ্চয়ই বিমর্ষ হবেন যে, আজও এই হত্যারহস্যের কিনারা হলো না।

বেনজিরের মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে না পারা দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রের জন্য বিরাট এক ব্যর্থতা এবং ঝুঁকিও বটে-- যদিও মামলাটি এখনো বিচারাধীন!

কে এবং কারা মেরেছিল বেনজিরকে? বেনজিরের খুনের তদন্তে জাতিসংঘও একটা তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। যা ছিল খুবই অভাবনীয়। এর প্রধান ছিলেন হেরাল্ডো মুনজ্ (Heraldo Munoz)। চিলির বর্ষিয়ান এক কূটনীতিবিদ তিনি। মুনজ্ এই বলে তদন্ত প্রক্রিয়ার ইতি টেনে ছিলেন যে, ‘বেনজিরের খুনের পেছনে এত জটিল হিসাব-নিকাশ লুকিয়ে আছে যে, কোন সরকারই এ বিষয়ক সত্য খুজে বের করতে চাইবে না এবং পারবেও না হয়তো।’ মুনজ্-এর আরেকটি আলোচিত মন্তব্য ছিল, ‘এই হত্যা প্রতিরোধযোগ্য ছিল।’ তিনি এও বলেন, এই ঘটনায় হত্যার পর্যায়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো :
এক. কারা পরিকল্পনা করেছিল;
দুই. কারা অর্থ দিয়েছিল এবং
তিন. কারা সিদ্ধান্তটি দিয়েছিল।
তিনি এও স্বীকার করেন, বেনজিরকে ঘৃণা করতো এমন প্রতিপক্ষের তালিকা বেশ দীর্ঘ।

২০০৮ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বেনজির শেষদফা নয় বছরের স্বেচ্ছানির্বাসন থেকে করাচি ফিরে এসেছিলেন ২০০৭-এর ১৮ অক্টোবর। তখনকার ক্ষমতাসীন জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে গোপন এক সমঝোতার মধ্যদিয়ে তিনি দেশে ফেরেন। ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের মাঝে ১৫ মিনিটের এক টেলিফোন আলাপচারিতায় এই সমঝোতা ঘটে। এই আলাপে মোশাররফ বেনজিরকে বলেছিলেন, তাঁর নিরাপত্তা নির্ভর করছে উভয়ের মাঝে রাজনৈতিক সম্পর্ক কিরূপ থাকে তার ওপর! কিন্তু সমঝোতার পরমুহূর্ত থেকে উল্লিখিত ‘সম্পর্ক’-এর অবনতিই কেবল দৃশ্যগোচর হচ্ছিলো।

২০০৭-এর ১৮ অক্টোবর বেনজির যখন আবার পাকিস্তানে ফেরেন- তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে যেমন অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল, তেমনি তাঁর বিরুদ্ধপক্ষও নীরবে বসে থাকে নি। তাঁর গাড়ি বহরে হামলায় সে রাতে ১৪৯ জন মারা যায়। যার মধ্যে ৫০ জনই ছিল বেনজিরের নিরাপত্তারক্ষী।
এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ২১ অক্টোবর তিনি যে এফআইআরটি করতে যেয়েও সফল হন নি তাতে লেখা ছিল: ‘আমাকে আগেই সরকার জানিয়েছিল কয়েকটি জঙ্গী গোষ্ঠী চায় না আমি দেশে ফিরি। এটা জেনে আমি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে লিখেছিলাম এবং সুনির্দিষ্টভাবে আমার ক্ষতি করতে পারে এমন শক্তিসমূহ সম্পর্কে জানিয়েছিলাম।’

যতদূর জানা যায়, বেনজির যাদের বিরুদ্ধে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছিলেন তারা হলেন চৌধুরী পারভেজ এলাহি, হামিদ গুল এবং ইজাজ শাহ। এদের মধ্যে শেষোক্ত দুজন তখনকার নেতৃস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন। হামিদ গুল ছিলেন আইএসআই (ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলেজিন্স) প্রধান এবং ইজাজ শাহ্ ছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রাক্তন প্রধান। হামিদ গুল বেনজিরের শাসনামলেই আইএসআই-এর ডিজি হন এবং এর আগে জিয়াউল হকের সময়ে মিলিটারী ইনটেলিজেন্স-এর প্রধান ছিলেন। আর ওই জিয়াউল হকই ভূট্টোকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন। চাকুরি ও সম্পর্কের এই অতীতগুলো রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং এও মনে রাখা জরুরি যে, গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে আইএসআই বরাবরই শক্তিশালী এক পক্ষ এবং বেনজিরের গতিবিধির ওপর তাদের কেবল যে তীক্ষ নজরদারি ছিল তাই নয়, তাঁর বসতবাড়িতে এবং স্টাফদের উপরও ব্যাপকভাবে আড়িপাতা হতো।

বলাবাহুল্য, ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবরের আক্রমণ নিয়ে বেনজিরের মৃত্যুর দিন পর্যন্ত কোনই তদন্ত হয় নি। ২০০৮ এর আগস্টে পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়া এবং অক্টোবরে পিপলস্ পার্টি আবার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই কেবল ঐ বিষয়ক তদন্ত আবার শুরু হয়। ইতিমধ্যে ২৭ ডিসেম্বর রাওলপিন্ডিতে আরেক হামলায় বেনজির আর রক্ষা পান নি। তাঁর মৃত্যুর পর দেশটিতে কয়েকদিনের দাঙ্গায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। বেনজির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হলেও মূত্যর পূর্বে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের প্রাপ্য নিরাপত্তা-প্রটোকল পান নি।
বিখ্যাত ফরেন এফেয়ারর্স জার্নালে (আগস্ট ২০১৩) এক লেখায় জাতিসংঘের তদন্তকারী মুনজ্ বলেছেন, তাঁদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, বেনজির হত্যার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস প্রধান ‘স্বাধীনভাবে’ কাজ করতে পারে নি।

উল্লেখ্য, মুনজ্ যখন এই হত্যাকান্ডের তদন্ত করছিলেন তখন দেশটিতে সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন পারভেজ কায়ানি। তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার আগে ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত আইএসআই-এর ডিজি ছিলেন। আবার তারও অনেক আগে তিনি বেনজির ভূট্টোর ডেপুটি মিলিটারী সেক্রেটারি ছিলেন এবং এও মনে করা হয়, মোশাররফের সঙ্গে বেনজিরের রাজনৈতিক সমঝোতায় কায়ানিই মধ্যস্থতা করেছিলেন। মূলত সমঝোতাটি ছিল এই যে, নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বেনজির প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং মোশাররফ থাকবেন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি বেনজিরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা তুলে নেয়া হবে।
কিন্তু পাকিস্তানের রাজনীতিতে মোশাররফ ও বেনজিরই একমাত্র পক্ষ ছিল না। বিশেষত আইএসআই বেনজিরের প্রতি বিশেষ বিরক্ত ছিল-- যখন তিনি এই অভিযোগ তোলেন যে, ওসামা বিন লাদেন গোয়েন্দা সংস্থাটিকে এক কোটি ডলার দিয়েছে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য। এসময় ওসামার জুজু দেখিয়ে পাশ্চাত্যের বিশেষ সহানুভূতি প্রত্যাশি ছিলেন বেনজির--কারণ ব্যক্তিগতভাবে সুনির্দিষ্ট কিছু দুর্নীতির কারণে চরম ইমেজ সংকটে ছিলেন তিনি।

২৭ ডিসেম্বর রাওলপিন্ডির ঘটনাস্থলে বেনজির ঠিক কীভাবে মারা গিয়েছিলেন সেটাও আজও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। সেখানে তখন একই সঙ্গে আত্মঘাতি হামলা হয় এবং একটা গুলিও বর্ষিত হয় বেনজিরের মাথা লক্ষ্য করে। আত্মঘাতি হামলাকারী ছিলেন একটি শিশু। অনুমান করা দূরূহ নয় যে, শিশুটিকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল মাত্র। আজও পাকিস্তান বেলাল নামের ওই আত্মঘাতির পারিবারিক পরিচয় জানে না। কারণ তদন্তকারীরা সেটা খোঁজার ব্যপারে আগ্রহী ছিলেন না।

তাঁর মৃত্যুর পরদিনই পাকিস্তান সরকার দুটি কাজ করে : ক. একটা জয়েন্ট ইনভেশটিগেশন টীম (জেআইটি) গঠন করে এবং খ. এই খুনের জন্য স্থানীয় তালিবান নেতা বায়তুল্লাহ মেসুদকে দায়ী করে।

এরূপ একটা বিশ্ব তোলপাড় করা খুনের ঘটনায় এত দ্রুত কাউকে দায়ী করা ছিল বিস্ময়কর এবং আরও বিস্ময়কর হলো তখনকার সিআইএ প্রধান মিশেল হেডেন ২০০৮ এর জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন পোস্টে এক লেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সরকারের এই ‘দাবি’ সমর্থন করেন এবং এরও কিছুদিন পর খুনের কথিত ‘পরিকল্পক’ বায়তুল্লাহ মেসুদ ‘বিমান হামলা’য় মারা যায়। তবে এসবে বেনজির সমর্থকরা স্বভাবত অসন্তুষ্টই ছিলেন।

২০০৯ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। আর কেন্দ্রীয় সরকারও ২০০৯ এর আগস্টে আরেক দফা তদন্তের হুকুম দেয়। এই তদন্তের কোড নাম ছিল ‘অপারেশন ট্রোজান (Operation Trojan Horse).

এই ‘অপারেশন’কালে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ হয় বিপুল। এ বিষয়ে ২০১৫ সালের ৬ জুলাই ডেইলি ডন-এ এক লেখায় মুখ্য তদন্ত কর্মকর্তা তারিক খোসা সম্প্রতি লিখেছেন, ‘..আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিকের কাছে কয়েকটি বিষয় চেয়ে পাঠিয়েছিলাম গোপনে। যার মধ্যে ছিল: মোশাররফকে লেখা বেনজিরের চিঠির কপি, যাতে তিন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম ছিল। বেনজিরের কিছু ইমেল যেখানে তিনি সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশেষভাবে বেনজির ও মোশাররফের মধ্যে যে রাজনৈতিক চুক্তি হয়েছিল তার কপি। এছাড়া পিপলস পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে বেনজিরের মূল ইচ্ছাপত্রও দেখা দরকার ছিল। কিন্তু রেহমান মালিক আমার চিঠির উত্তর দেন নি।”

`অপারেশন ট্রোজান হর্স’-এর পক্ষ থেকে অন্তত ৫ জন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরা সকলে ষষ্ঠ যে ব্যক্তির নাম বলেন তিনি হলেন জনৈক ইবাদুর রহমান। কৌতূহল উদ্দীপক তথ্য হলো এই ইবাদুরকে আটক করা সম্ভব হয় নি। সে খাইবার এজেন্সিতে ২০১০ এর মে মাসে এক বিমান হামলায় মারা যায়! বেনজিরের মৃত্যুর জন্য আরেক সন্দেহভাজন ছিলেন আল-কায়েদার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক মুস্তফা আবু যাইদ। ২০১০ এর ২২ মে আরেক বিমান হামলায় তিনিও মারা যান উত্তর ওয়ারিস্তানে! উল্লেখ্য, যাইদই একমাত্র বেনজিরের মৃত্যুর দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দিয়ে বলেছিল:‘ মুজাহিদিনদের পরাজিত করার মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটিকে নির্মূল করা হয়েছে।’

বেনজিরের মৃত্যুর জন্য তৃতীয় আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন ছিলেন খালিদ শাহেন শাহ। বেনজিরের নিরাপত্তার জন্য তাকে ভাড়া করা হয়েছিল। বেনজিরের মৃত্যুর কিছু দিন পরই খালিদ করাচিতে খুন হন। তাঁকে খুনের দায়ে যাকে অভিযুক্ত করা হয় করাচির রেহমান ডাকাত নামে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের এক নেতাকে। সেই রেহমান আবার কিছুদিন পর পুলিশের এক কর্মকর্তা মো. আসলামের হাতে খুন হয় এবং আসলামও এক পর্যায়ে খুন হয়ে যায়। এছাড়াও এই মামলার একজন প্রসিকিউটর চৌধুরী জুলফিকার আলীও রাওলপিন্ডিতে খুন হন ২০১৩ তে। সামগ্রিক এসব বস্তুত হলিউডের যেকোন একশন মুভি’র চেয়ে নাটকীয়তায় ভরা।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের‘ অপারেশন ট্রোজান হর্স’-এর তদন্তকারীরা প্রথমদিকে আন্তরিকভাবেই চাইছিলেন ঘটনার প্রকৃত হোতাদের চিহ্নিত করতে। এক পর্যায়ে তারা দেখতে পায় ষড়যন্ত্রের জাল কেবল পাকিস্তানে নয় বিশ্বের অনেক দেশে বিস্তৃত এবং তথ্য প্রমাণ ছড়িয়ে আছে বহু দেশ জুড়ে। বিশেষ করে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমিরাতে। তদন্তও এগোচ্ছিল সঠিক গন্তব্যে। কিন্তু এক পর্যায়ে তদন্ত দলের প্রধান তারিক খোসা (Tariq Khosa)- কে বদলি করে দেয়া হয়। স্বাভাবিকভাবে এ থেকে সবাই এ বিষয়ক বার্তাটুকু বুঝে নিতে সক্ষম হয় এবং পাকিস্তান পিপলস্ পার্টির বেনজির পরবর্তী নেতৃত্বও এ বিষয়ে নমনীয় থাকার নীতি নেয়।

এ প্রসঙ্গে এও উল্লেখ্য, রাওয়ালপিন্ডির যে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে ‘বেনজির মার্ডার কেস’-এর বিচার চলছে তাতে এ পর্যন্ত সাত জন বিচারক বদল হয়েছেন! এর মাঝে বেনজিরের দল পিপলস্ পার্টিও পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিলও এবং সেসময় খোদ তাঁর স্বামীই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ মামলায় প্রায় ১৫০ জন সাক্ষী থাকলেও আফিস আলী জারদারি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন এবং জারদারির প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় এ মামলার বিষয়ে অন্যতম অভিযুক্ত পারভেজ মোশাররফকে কখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা যায় না।

 

-------

আলতাফ পারভেজ : গবেষক; ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী : ইতিহাসের পুনর্পাঠ’ (ঐতিহ্য) শীর্ষক গ্রন্থের লেখক। শিগগির প্রকাশিত হবে তাঁর আরেক গবেষণা গ্রন্থ ‘শ্রী লঙ্কার তামিল ইলম্ : দক্ষিণ এশিয়ায় জাতি-রাষ্ট্রের সংকট’।