রবিবার ১৩ অক্টোবর, ২০১৯
deutschenews24.de
Ajker Deal

জার্মান আওয়ামী লীগের একাল সেকাল

খান লিটন
প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার, ০১:০৩  এএম

জার্মান আওয়ামী লীগের একাল সেকাল

আশংকা জার্মান আওয়ামী লীগকে ঘিরে আবার কোনও নতুন ধান্ধাবাজের সূত্রপাত হয় কিনা? স্বাধীনতা পরবর্তীতে ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ছাত্রলীগের ও মুজিব আদর্শের যেসব সৈনিক তথা মুক্তিযাদ্ধা ও মুক্তিবাহিনীর যারা জার্মানীতে এসেছিলেন তারা ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জার্মান আওয়ামীলীগ গঠন করেন।
শুরুদিকের সাধারন সম্পাদক ছিলেন মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক জনাব আতিকুল্লাহ আতিক আর সভাপতি তরুন, প্রজ্ঞাশীল, বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন অনিল দাশ গুপ্ত। অন্যরা যারা জার্মান আওয়ামী লীগের পত্তনের নেতৃত্বে ছিলেন তারা হলেন মুক্তিবাহিনীর সংগঠক মরহুম আ, রহিম, প্রফেসর শরীফুল ইসলাম, কাজী মতিন, মুকতাদির আলী, মোকলেসুর রহমান মনজু, আনোয়ারুল কবির, জয়নাল হক, খসরু খান, হাবিব হাওলাদার, ফারুক সিদ্দিকি, তরুন মুক্তিযাদ্ধা বি এম ফরিদ আহমেদ, আনোয়ার চৌধুরী, সৈয়দ সেলিম আহমেদ, লাভলু ভাই, শাহাবউদ্দিনসহ আরো অনেকে। এক সময় বাকশাল গঠিত হলে অনেকে বাকশাল করেন। বাবু শ্রী অনিল দাশ ও জনাব আতিকুল্লাহর কমিটি এক সময় ( নব্বই দশকে ) সম্মেলনে কাজী মতিন ও খসরু খানের প্যানেলের কাছে হেরে যান, কিন্তু বৈধ কমিটি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাননি। পাশাপাশি জনাব আনোয়ারুল ইসলাম রতন (সাবেক হেসেন আওয়ামীলীগ সভাপতি) কে সভাপতি ও বি, এম , ফরিদ আহমদ কে সাধারন সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠিত হয় যা তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক মরহুম জনাব জিল্লুর রহমান দ্বারা অনুমোদিত ছিলো। বাবু শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত এই কমিটির সমর্থন করেন ও একসাথে কাজ করেন। এর মাঝে আরো এক/দু´টো কমিটি করার চেষ্টা করা হয়, তবে হালে পানি পায়নি।
রতন-ফরিদ কমিটির অনেক বছর পার হয়ে যাওয়ায় কোন সম্মেলন না দেওয়ার অভিযোগে দলের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ সেলিম আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বশিরুল আলম চৌধুরী সাবুর নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠিত হয়। ইতোমধ্যে সময়ের ব্যাবধানে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার চরম আস্থাভাজন ও পরীক্ষিত নেতা অনিল দাশকে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামীলীগ এর চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব দেন । নীতিগত কারণে রতন-ফরিদ কমিটির সাথে অনিল দাশের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এতে করে সৈয়দ সেলিম ও সাবুর কমিটির কাজ করতে সুবিধা হয়। শেষ পর্যন্ত কমিটি দাড়ায় তিনটা। ২০১১ সালে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মান সফরের আগে ফ্রাংকফুর্ট অনিল দাশগুপ্তসহ তিন কমিটির বেশীর ভাগ কর্মীদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার সভাপতি হন বশিরুল আলম চৌধুরী সাবু , সাধারন সম্পাদক সাবেক বার্লিন শাখা কমিটির সাধারন সম্পাদক শেখ বাদল আহমেদ। এ কমিটি নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে, যেমন বিএনপি-জামায়াতের লোক কাউন্সিলর ছিলো ও তারা ভোট দিয়েছে, পেশীশক্তির প্রোয়োগ করা হয়েছে। উপস্থিত অনেকেই কমিটি মানেননি। কেউ মানুক আর না মানুক অনিল বাবুর নীতিগত সমর্থন থাকায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জার্মানীতে অভ্যার্থনা সাবু-বাদল কমিটির মাধ্যমে হওয়ায় এই কমিটি বৈধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ত্যাগী নেতা কর্মীদেরও। এর প্রতিবাদে তারা প্রেস কনফারেন্স করেন। কিন্তু এতে কোনও কাজ হয়নি। যেই লাউ, সেই কদু - কমিটি তিনটিই থেকে যায়। তবে রতন - ফরিদ ও মতিন -খসরু দুই কমিটি মিলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর তৎকালীন সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের উপস্হিতিতে একটি কমিটি করা হয়। এতে আনোয়ারুল ইসলাম রতনকে সভাপতি ও আবু জাফর স্বপনকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। কিন্তু মতিন -খসরু কমিটির অনেকেই এই কমিটিকে মেনে নেয়নি । ওই তিন কমিটিই রইলো।
অভিযোগ আছে আনোয়ারুল ইসলাম রতন বেশীর ভাগ সময় বাংলাদেশে থাকেন ও জার্মান আওয়ামীলীগ সভাপতির নাম করে বিভিন্ন ব্যাবসা করেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগের প্রমান নাই। আর এক সভাপতি সাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বাংলাদেশে পুলিশের দালালী করেন, সচিবালয় তদবির করেন। সম্প্রতি আরো অভিযোগ উঠেছে তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যাবসা ও সাপের বিষের ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এরও কোন প্রমান নাই। তিনি নিজেও সব অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি দুইবারই কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতা সম্পন্ন নেতা। সাবুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কারনে অনিল দাশগুপ্তের সাথে সাবুর নীতিগত দূরত্ব তৈরী হয় । পাশাপাশি সাবুর সাথে দীর্ঘদিন পথচলা রাজনৈতিক সঙ্গী হাফিজুর রহমান আলম, জাহিদুল ইসলাম পুলক, নোমান হামিদ, হাকিম টিটো, মাহফুজ ফারুক (আরো অনেকের পুরো নাম আমি জানিনা তাই লেখা গেল না বলে মাফ করবেন) সহ অনেকের সঙ্গেই দুরত্বের সৃষ্টি হয়।

এ বছরের ১৭ ই ডিসেম্বর ফ্রাংকফুর্টে সর্বইউরোপীয় আওয়ামীগের চেয়্যারম্যান বাবু শ্রী অনিল দাশগুপ্তের এর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে ঐক্যমতের জার্মান আওয়ামীলীগ গঠনের আহবান জানানো হয়। এতে বার্লিনের মিজানুর হক খান, মিউনিক প্রবাসী বীর মুক্তিযাদ্ধা মাসুম মিয়া, রতন কমিটির সাধারন সম্পাদক মাবু জাফর স্বপন, হাসনাত মিয়াসহ বিভিন্ন শহরের তরুন/ প্রবীন নেতাকর্মীরা অংশ নেন। নতুনদের মধ্যে মেহেদি হাসান মুন্না ও কায়সার আলম যথেস্ট কাজ করেন । অন্যদিকে আনোয়ারুল কবির, কাজী মতিন, সৈয়দ সেলিম আহমেদ, খসরু খান, বিএম ফরিদ আহমেদ এর উপস্থিতি ছিলো ঐক্যমতের বড় দৃষ্টান্ত। ওই দিনই ফ্রাংকফুর্টেই ছিলো সাবু কমিটির বিজয়দিবসের অনুষ্ঠান। সাবু তার বক্তৃতায় সব অভিযোগ অস্বীকার করে অনিল দাশগুপ্ত সহ সবাইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন রতনও। তিনি মিউনিখের একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কথা বলেন। অনেকেই অনেক কথা বলেন। নতুন নতুন কমিটি গঠন করেন।তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে এসব কথা ধোঁপে পাত্তা পাবে না। বিগত দিনের ইউরোপে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাস তাই বলে। এমনকি বিলেতসহ ইউরোপের যেসব দেশে যেখানে আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বে এসেছে তারা সবাই অনিল দাশগুপ্তের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেই কাজ করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে অনিল দাশ গুপ্ত যা চাইবেন , তাই হবে। এতে কারও কোনও আপত্তি নাই। তবে আশংকা, নতুন কোনও ধান্ধাবাজের সূত্রপাত হয় কিনা ????????

লেখক: রতন- ফরিদ কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বর্তমান রতন - স্বপন কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক