মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
deutschenews24.de
Ajker Deal
মতিউর রহমান

কিছুই সহজ নহে- ১

মতিউর রহমান
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০৯:২০  এএম

কিছুই সহজ নহে- ১

জার্মানীতে ভার্সিটিতে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট ইত্যাদি অনলাইনে আপলোড করার জন্য বলা হয়েছিল। আমার কাছে আছে অনার্স/ মাস্টার্স এর মার্কসশীট। 

ট্রান্সক্রিপ্ট আর মার্কসশীট কি একই বস্তু নাকি আলাদা?

একবার একটু গুগলে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। এত অল্প সময় ছিল যে ভালো করে দেখারেও সময় ছিলনা। আমার এক সহকর্মী যিনিও আমার পথের পথিক ফোন করে জানতে চাইল- ট্রান্সক্রিপ্ট আর মার্কসশীট কি একই? বলে দিলাম- হ্যা, একই।

অনার্সের চার বছরের চারটা প্লাস দু-একটি ইমপ্রভমেন্টসহ সবগুলো মার্কসশীট স্ক্যান কাম পিডিএফ কমবাইন্ড করে এক ফাইল বানিয়ে আপলোড করলাম। আপলোড করলাম অন্যান্য সকল ডকুমেন্ট স্ব স্ব স্লটে।

ভার্সিটি সব ওকে করল। আমারও অনুমান যেন আরো শক্ত হলো- ট্রান্সক্রিপ্ট আর মার্কসশীট একই।

এবার ভার্সিটির নির্দেশনা- সকল ডকুমেন্টসগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (যেমন ভার্সিটি/ নোটারী পাবলিক ইত্যাদি) কর্তৃক ভেরিফাইড করে ডাকযোগে ভার্সিটিতে পাঠাতে হবে।
আমার হাতে সময় খুবই কম। খুব সকাল সকাল গেলাম ঢাবি রেজিষ্টার বিল্ডিং-এ। আহা কপাল! চির কুমারের চির বিদায়। হ্যা, ঢাবির সাবেক উপাচার্য মনিরুজ্জামান স্যার শেষ রাত কিংবা সকালে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। তাই, ভার্সিটি আজ বন্ধ। এটা নাকি ভার্সিটির আইন/কানুন/আচার। পুরা বন্ধ।

পরের দিন। আবারো ঢাবি রেজিষ্টার বিল্ডিং। সেখানে যেয়ে জানলাম- ট্রান্সক্রিপ্ট আর মার্কসশীট এক নয়। ট্রান্সক্রিপ্টের নমুনা দেখালেন। ট্রান্সক্রিপ্ট হলো Comprehensive summary যেখানে অনার্সের প্রথম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষ পর‌্যন্ত প্রতিটি কোর্সের নাম ও প্রাপ্ত মার্কস/গ্রেড দেয়া থাকে। আর মার্কসশীট হলো প্রতিটি পরীক্ষার শেষে প্রাপ্ত মার্কস যে ডকুমেন্টে আমরা পাই।

ভালো। ট্রান্সক্রিপ্ট ভালো জিনিস। একটা সিঙ্গেল পেইজে সমস্ত কোর্স ও প্রাপ্ত মার্কস/গ্রেড দেখা যাচ্ছে।

তো ঢাবি, আমাকে যখন অনার্স ফাইনালের (৪র্থ বর্ষের) মার্কসশীটটি দিয়েছিলেন, তখন সাথে সাথে অনাসের্র একটা ট্রান্সক্রিপ্ট দিতে কি সমস্যা ছিল? মার্কসশীটের বাইরে ট্রান্সক্রিপ্ট নামক একখান আলাদা বস্তু যে আছে, তাও তো কেউ বলেন নি?

যাইহোক, ট্রান্সক্রিপ্ট তোলার মত সময় আমার হাতে নাই। তাই মার্কসশীট আর সার্টিফিকেটই ভেরিফাইড করার জন্য টাকা জমা দিলাম। ভেরিফাইড কপি ডাকযোগে জার্মানীর ভার্সিটিতে পাঠিয়েছিলাম। কোন সমস্যা হয়নি।

সমস্যা হয়নি, অলরাইট। কিন্তু অনার্সের ট্রান্সক্রিপ্টটা থাকা খুব জরুরী। এ্যাম্বাসীতে ভিসা সাক্ষাতকারের সময় যখন সমস্ত কাগজগুলো সিরিয়াল মত সাজিয়ে দিয়েছি, তখন ভিসা অফিসার বলছে- এতগুলো মার্কসশীট কেন?
তখন আমাকে ব্যাখ্যা দিতে হলো- অনার্সের চার বছরের চারটা প্লাস দু-একটা ইমপ্রভমেন্ট। তাই এত বেশি! আসলে যা থাকা উচিত ছিল তার নামই ট্রান্সক্রিপ্ট। এক পাতায় পুরো অনার্সের মার্কস।

আমার ধারণা, ঢাবিসহ পাবলিক ভার্সিটিতে আমরা যারা পড়াশুনা করেছি, তাদের ৯৫% ছাত্রছাত্রীরাই অনার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট তুলি নাই। প্রয়োজন হয় নাই। শুধু অনার্স ফাইনালের (৪র্থ বর্ষের) মার্কসশীট (যেখানে ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের শুধু টোটাল মার্কস উল্লেখ থাকে) দিয়ে সব কাজ চলে।

কিন্তু ভাইরে, আমার উপলব্ধিটা হলো- অনার্স ফাইনালের (৪র্থ বর্ষের) মার্কসশীটের সাথে সাথে অবশ্যই অবশ্যই অনার্সের ট্রান্সক্রিপ্টটাও তুলে রাখা দরকার। প্রয়োজনের সময় দৌড়াবেন? নির্ধারিত ফি জমা দেয়ার জন্য ঢাবির রেজিস্টার বিল্ডিং থেকে টিএসসি জনতা ব্যাংকের দুরত্বটা খুব সামাণ্য হলেও তখন অনেক বেশি মনে হয়!

 

মতিউর রহমান, জার্মানির বন রাইনজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স করছেন।