বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর প্রথম পালিত হলো ‘রাঙামাটি মুক্ত দিবস’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ রবিবার, ১০:২৭  এএম

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর প্রথম পালিত হলো ‘রাঙামাটি মুক্ত দিবস’

বন, ডিসেম্বর ১৮ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই)
রীতিমতো অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্যি! বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর হলেও এতদিন অবহেলা আর উন্নাসিকতায় পালন করা সম্ভব হয়নি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি মুক্ত দিবস। সেইদিন সেই কলঙ্ক মোচন করতে এবার এগিয়ে আসেন স্বাধীন বাংলার পতাকা যারা উড়িয়েছিলেন সেই দুই কিংবদন্তী পুরুষ শামসুদ্দীন আহমেদ পেয়ারা ও মনীষ দেওয়ান। তাদের আগ্রহ ও নেতৃত্বে এবছর প্রথমবারের মতো পালিত হলো দিবসটি।


মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর রাঙামাটি শত্রুমুক্ত হয়। এই দিনেই রাঙামাটির পুরাতন কোর্ট ভবন মাঠে বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে একই স্থানে শনিবার ওঠানো হয় বাংলাদেশের পতাকা। ৪৫ বছর পর সব মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে আবারও একই স্থানে পতাকা উত্তোলন করেন সেই দুই কিংবদন্তী পুরুষ শামসুদ্দীন আহমেদ পেয়ারা ও মনীষ দেওয়ান। এই সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

পরে রাঙামাটি মুক্ত দিবস উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ কমান্ড কাউন্সিলের রাঙামাটি শাখার সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক সুনীল কান্তি দে, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক শামসুদ্দীন আহমেদ পেয়ারা,  মুক্তিযোদ্ধা রণবিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, লে. কর্নেল (অব.) মুক্তিযোদ্ধা মনীষ দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধা অশোক মিত্র কার্বারি, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাজি কামাল উদ্দীন।

সভায় দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে রাঙামাটি মুক্ত দিবস পালন না হওয়ায় ক্ষোভ ঝড়তে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে। হতাশ কণ্ঠে বক্তারা বলেন, যারা সেদিন পতাকা উড়িয়েছিলেন আবার তাদেরকেই এ উদ্যোগ নিতে হলো অথচ দীর্ঘদিন অন্যরা দায়িত্বে থেকেও এ দিবসটি পালন করেননি।
এসময় নিজেদের দায় ঢাকতে তাদের অনেককেই জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থাকার পরেও গত ৪৫ বছর ধরে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন সে প্রশ্নও তোলেন বক্তাদের কেউ কেউ।
বক্তাদের অনেকেই এরপর থেকে সরকারি ভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানান।


/আইএন/

সংবাদ - এর আরও খবর

সংবাদ বিভাগের সব খবর