শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

শোষণমুক্ত, সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০২:৩৭  এএম

শোষণমুক্ত, সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

বন, ডিসেম্বর ১৬ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই) -- স্বাধীনতার চেতনায় শোষণমুক্ত, সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশটির ৪৫তম বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয় দিবস। বাঙালির যুদ্ধ ইতিহাসের একটি অবস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালে এ দিন লাখো শহীদের রক্তস্নাত বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। বিশ্বের মানচিত্রে নতুন এক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ ঘটে।

এবারের বিজয় দিবস বাংলাদেশীতের জন্য এক বিশেষ গুরুত্ববহন করছে। কারণ ইতোমধ্যে শীর্ষ যুদ্ধারাধীদের সাজা কার্যকর করা হয়েছে।

শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছিল বাংলাদেশি জনতার এছিল বিপ্লবাত্মক লড়াই। সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশের বিজয়ের মধ্যদিয়ে অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়ের।

টানা নয় মাসের যুদ্ধশেষে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী মিত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সর্বাধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

স্বাধীনতার এ সূর্য ছিনিয়ে আনতে আত্মাহুতি দেয় ৩০ লাখ বাংলাদেশি। আর সম্ভ্রম হারা হন দুই লাখ নারী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ব্রিটিশ শাসন থেকে বের হয়ে আসার জন্য ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনেও ছিল বাঙালিদের অবদান। বাঙালিরাই ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর। কিন্তু কয়েক বছরেই বাঙালির সেই মোহভঙ্গ হয়। যে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তারা ইংরেজদের বিতাড়িত করেছিল সেই একই রকম শোষণ-বঞ্চনার মুখোমুখি হয়ে পড়ে কয়েক বছরের মধ্যেই। শুরু হয় সংগ্রামের নতুন যুগ। পাকিস্তানিরা এ ভূখণ্ডের মানুষকে তাদের তাঁবেদার মনে করতো। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত করতো বাঙালিদের। এমনকি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতেও তারা অস্বীকার করতো।

৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থান এসবই ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচন সব পরিণতিকে দিয়ে দেয় চূড়ান্ত রূপ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এক সংখ্যাগরিষ্ঠা লাভ করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর করা নিয়ে পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা টালবাহানা শুরু করে। এতে করে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে দেশটির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন,‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ঘোষণাই বাংলাদেশিদের জন্য যুদ্ধের প্রন্তুতি গ্রহনের নির্দেশনা বলে মনে করা হয়। নির্বাচিত আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী। কোনও কোনও বিশ্লেষক আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা ও গণহত্যার মূল পরিকল্পনকারী হিসেবে পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা জুলফিকার আলী ভূট্টোকে চিহ্নিত করে থাকেন। ২৫ মার্চ রাতেই আটক করা শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২৬ মার্চ রাতে রেডিওতে ভেসে আসে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনা। এরপরই বাঙালীরা সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলে। নয় মাস পর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।

 

ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/এমআরএফ

সংবাদ - এর আরও খবর

সংবাদ বিভাগের সব খবর