বৃহস্পতিবার ২২ জুন, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

সংবাদ বিশ্লেষণ: জাপানের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০২:১৮  এএম

সংবাদ বিশ্লেষণ: জাপানের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি

বন, ডিসেম্বর ১৬ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই)-- চলতি বছরের প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতিতে মন্থর প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেলেও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি বৃদ্ধি পায়। ডলার শক্তিশালী হয়ে উঠায় চলতি বছরের শুরু থেকে ব্যবসায় অপেক্ষাকৃত ধীর গতি পরিলক্ষিত হওয়া উৎপাদন খাত এখন মাঝারি গতির পুনরুদ্ধার অর্জনের পথে রয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় এক লক্ষ সত্তর হাজার কর্মী শ্রম শক্তিতে যোগ দিচ্ছেন। বেকার জনসংখ্যার হার এখন হচ্ছে ইতিহাসে সবচেয়ে কম এবং মুদ্রাস্ফীতির হার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিসার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্য দুই শতাংশের কাছাকাছি। অর্থনীতির এই ধারা সুষম এবং আর্থিক বাজারও ভাল করছে - সেরকম বিচার বিবেচনার ভিত্তিতে ফেডারেল রিসার্ভ সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে প্রতীয়মান হয়।

সিদ্ধান্তের ঘোষণা প্রচারে যা কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে তা হল, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী বছর হার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করছে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে দেখা দেয়া অনিশ্চয়তার মুখে আমি মনে করেছিলাম কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক হয়তো সেপ্টেম্বর মাসে করা ২০১৭ সালে হার দুই শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাষ থেকে বড় ভাবে সরে আসবেনা। তবে ব্যাংক এখন হার প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া প্রত্যাশা করছে। ফেডারেল রিসার্ভের প্রধান জেনেট ইয়েলেন বলছেন সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে লোকজনের খুব বেশী মাথা ঘামানো উচিৎ নয়, যে সিদ্ধান্তকে তিনি বড় কোন রদবদল বলছেন না। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা সামান্য ঊর্ধ্বমুখী দিকে সংশোধন করে নেয়া হয়। তাই এরকম বলা যায় যে ফেডারেল রিসার্ভ অর্থনীতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি উপরের দিকে সংশোধন করে নিয়ে মার্কিন অর্থনীতির মূল্যায়নে ছোট আকারের সম্প্রসারণ যোগ করে নিয়েছে। নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া শেয়ারের মূল্য ফিরে পাওয়ার প্রবণতা, যে প্রপঞ্চকে বলা হচ্ছে ট্রাম্প বাজার - সেটাও দৃশ্যত হচ্ছে সেই সিদ্ধান্তের একটি কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত দুর্বল ইয়েন জাপানের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য কি প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে সে বিষয়ে বলা যায় যে আমদানি-কারক, রপ্তানি ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা - প্রত্যেকের বেলায় প্রতিক্রিয়া হবে ভিন্ন। তবে জাপানের অর্থনীতিতে সার্বিকভাবে এর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। অন্যদিকে আবার জাপানি মুদ্রা তুলনামূলক দ্রুত গতিতে দুর্বল হচ্ছে এবং আমদানি ব্যয় ও খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে দিয়ে অর্থনীতিতে এটা প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হল ইয়েনের দুর্বল হওয়ার গতি ও সেই সাথে ইয়েনের মূল্যে দ্রুত পতন এড়িয়ে যাওয়া। মার্কিন ডলার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে উদীয়মান অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা তহবিল সহসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেয়া হতে পারে। উদীয়মান অর্থনীতির আর্থিক বাজারকে তা অস্থিতিশীল করে দিলে এর ফলে জাপানের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে। 

(কাৎসুইয়ুকি হাসেগাওয়া, মিযুহো গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বাজার অর্থনীতিবিদ। সূত্র: এনএইচকে ওয়ার্ল্ড)

এইচএইচ/