বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

প্রাসাদোপম বাড়ি বিধ্বস্তের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন দিলীপ গোস্বামী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০১:৫১  এএম

প্রাসাদোপম বাড়ি বিধ্বস্তের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন দিলীপ গোস্বামী

ঢাকা, ডিসম্বের ১৫ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই) -- বিস্তৃত জায়গা জুড়ে ষাটের দশকে স্থাপন করা হয়েছিল এল প্যাটার্ণের বিশাল এই সুদৃশ্য পাকা দালান বাড়িটি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আছমিতা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের তালতলার বাড়ি হিসেবে পরিচিত এ বাড়িটিকে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ আশ্রয় বিবেচনায় ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ বাড়ি থেকেই বিভিন্ন স্থানে অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হতো। এমনকি কিশোর-যুবকদেরকে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো।

মে মাসের টালমাটাল দিনগুলোতে জেলা শহরসহ সকল থানা সদরে পাকহানাদার ও রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। এ সময় এ বাড়িতে আশ্রয় নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পনা আঁটে দখলদার বাহিনী আসার প্রধান পথে অবস্থিত ঢুলদিয়া সেতু ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার। আর এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত থেকে নৌকাযোগে শক্তিশালী ডিনামাইট আনা হয়। কিন্তু; সেই অপারেশন চালানোর আগেই একদিন দুপুরে বিকট শব্দে আপনিতেই বিস্ফোরিত হয়ে যায় এ ডিনামাইট। বিধ্বস্ত হয় এ বিশাল বাড়ির অধিকাংশ অংশ। ভাগ্যিস এ সময় সকলেই বাড়ির বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়।
আজও ওই বিশাল তালতলা পাকা দালান বাড়ির একাংশ মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তালতলা বাড়ির স্বত্বাধিকারী স্বর্গীয় নরেশ চন্দ্র গোস্বামীর জেষ্ঠপুত্র আছমিতা জজ ইনস্টিটিউশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীলিপ কুমার গোস্বামী ভগ্ন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছিলেন।
তিনি জানান, ‘মে মাসের প্রথম দিকেই বাবা-মাসহ বাড়ির অন্যান্য লোকজন ভারতে পাড়ি জমান। কিন্তু; তিনি দেশের মায়ায় বাড়িটিকে আঁকড়ে ধরে পড়েছিলেন। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তারা মাস্টার ও স্থানীয় কমান্ডার নূরুল হকের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা এ বাড়িতে উঠেন এবং বাড়িটিকে অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এ বাড়ি থেকেই বিভিন্ন স্থানে অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হতো। তরুন ও যুবকদের মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হতো। আমি তখন ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। জজ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক ও ন্যাপের সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তরুন যুবকদের স্লিপ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ে পাঠানোর দায়িত্বপালন করতাম। আজ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় চার যুগ ছুঁই ছুঁই করছে। ডিনামাইটে বিধ্বস্ত আমাদের বাড়িটির একটি বাহু আজও সেই স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমিও জীবন সায়াহ্নে উপনীত। মুক্তিযুদ্ধের সেই গর্বিত ইতিহাস ও ভূমিকার স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্যই আমরা যে যার স্থান থেকে অবদান রেখেছি। আমাদের এ প্রাসাদোপম বাড়িটিও মহান মুক্তিযুদ্ধের গর্বিত ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্ডিই/এমআরএফ

সংবাদ - এর আরও খবর

সংবাদ বিভাগের সব খবর