বুধবার ২৮ জুন, ২০১৭
deutschenews24.de
Ajker Deal

বাংলাদেশে অপ্রাপ্তবয়সী মেয়েদেরও বিয়ের সুযোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার, ১০:২০  পিএম

বাংলাদেশে অপ্রাপ্তবয়সী মেয়েদেরও বিয়ের সুযোগ

বন, নভেম্বর ২৪ (ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই) -- বিশেষ অবস্থায় অপ্রাপ্ত বয়সী (১৮ বছরের নিচে) মেয়েদেরও বিয়ের সুযোগ রেখে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা।

আগের মতোই নতুন আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স মেয়েদের ১৮ বছর ও ছেলেদের ২১ বছর রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুমোদনের কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

আমাদের দেশের বাস্তবতার নিরিখে বিয়ের বয়স (মেয়েদের ১৮ ও ছেলেদের ২১ বছর) কমানো যায় কিনা তা পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

১৯২৯ সালের চাইল্ড ম্যারেজ রেজিস্টার্ড অ্যাক্টকে পুনর্বিন্যাস ও বাংলায় রূপান্তর করে নতুন আইনটি করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অপ্রাপ্ত বয়স্কের সংজ্ঞায় আইনে বলা হয়েছে, বিবাহের জন্য ২১ বছর পূর্ণ হয়নি এমন কোন পুরুষ এবং ১৮ বছর পূর্ণ করেননি এমন কোন নারী। বাল্যবিবাহ হচ্ছে, যেখানে এক পক্ষ বা উভয়পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক।’

আইনের ১৯ ধারায় একটি বিশেষ বিধান রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সেখানে বলা হয়েছে, এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশে এবং মাতা-পিতার সম্মতিতে বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিয়ে হলে তা এ আইনের অপরাধ বলে গণ্য হবে না।’

বিশেষ প্রেক্ষাপট কি- একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, ‘কত ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।...হয়ে যায়। ওটাকে লিগালাইজ করার জন্য এ বিধান।’

খসড়া আইনের বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘আদালত নিজ উদ্যোগে বা কারো অভিযোগের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বিয়ে (বাল্য বিবাহ) থামিয়ে দিতে পারবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন না হলে প্রত্যাহারও করে নিতে পারবেন।’

‘নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিয়ে আয়োজন করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্ধদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে। কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা অর্ধদণ্ড বা উভয়দণ্ড দেওয়া যাবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন নারী বা পুরুষ বাল্য বিবাহ করলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের আটকাদেশ বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার জরিমানা করা হবে। কোন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ বাল্য বিবাহ করে বা শিশুকে বিবাহ করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাল্য বিবাহের সঙ্গে পিতা-মাতা বা অন্য ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের জন্যও সর্বোচ্চ ২ বছরের সর্বনিম্ন ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

‘বাল্য বিবাহ পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজীসহ অন্যরা সর্বোচ্চ ২ বছরের কমপক্ষে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

শফিউল আলম বলেন, ‘বাল্য বিবাহ বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার শর্তে বাল্য বিবাহের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির পাওয়া যাবে- এমন একটা বিধান রাখা হয়েছে আইনে।’

‘বাল্য বিবাহ নিবন্ধনের জন্য বিবাহ নিবন্ধকের সর্বোচ্চ ২ বছর সর্বনিম্ন ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাতিল হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক নারী বা পুরুষের বয়স প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা সমমানের পরীক্ষা সার্টিফিকেট, প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট আইনগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। যে কোন একটা দিয়ে বয়স প্রমাণ করা যাবে।’

খসড়া আইনে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যে জরিমানা আরোপ করা হয় তা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করা যাবে।’

শফিউল আলম আরও বলেন, ‘অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধের বিচার যেভাবে হয় (এ আইনের অপরাধের বিচার) সেভাবেই হবে। এখানে সরেজমিনে তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোবাইল কোর্টও এ আইনের আওতায় প্রযোজ্য হতে পারে।’

সৌজন্যে: দি রিপোর্ট ডটকম
ডয়েচেনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটডিই/এমএম